এখনো পুলিশের ভয় কাটেনি, থানায় ফিরলেও মাঠে নেই
শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে গত ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সেদিনই সারাদেশের বেশিরভাগ থানায় হামলার অভিযোগ পাওয়া যায়। বিক্ষোভকারীদের অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের পর দেশের সব থানার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
সংঘর্ষের সময় এবং থানায় হামলার ঘটনায় রাজধানীসহ সারাদেশে কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিহত হলে, তাদের দাবিতে সারাদেশের পুলিশ কর্মীরা কর্মবিরতি শুরু করে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে ৪৩ জন পুলিশ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হিসেবে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব গ্রহণের পর সারাদেশের বিপর্যস্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়া হয়। বৃহস্পতিবারের মধ্যে সকল পুলিশ সদস্যকে কাজে যোগ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। সরকারের নির্দেশনা ও আলোচনার পর পুলিশ কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে এবং থানার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হলেও, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখনও পুলিশের সক্রিয়তা তেমন চোখে পড়ছে না।
রাজধানীর কয়েকটি থানার কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছে বিবিসি বাংলা।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গুলশান অঞ্চলের একজন কর্মকর্তা, নাম প্রকাশ না করার শর্তে, বিবিসি বাংলাকে জানান, “সাধারণ মানুষ এখন পুলিশকে আর আগের মতো মানছে না। কোনো অপরাধের তথ্য পেলেও আমরা নিজ উদ্যোগে অভিযানে যেতে আতঙ্কিত। সেনাবাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে অভিযানে যেতে হচ্ছে।”
হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশের বহু গাড়ি ও ভবন পুড়ে গেছে। অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে অনেক থানায় আসামিদের রাখার স্থানও নেই বলে জানিয়েছেন কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা।
পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) এনামুল হক সাগর বিবিসি বাংলাকে জানান, “যেসব থানায় পুরোপুরি ক্ষতি হয়েছে, সেগুলোতে লজিস্টিক্যাল সাপোর্ট প্রদান করা হচ্ছে। আমরা পুলিশের কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছি।”
বিবিসি বাংলার সঙ্গে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন থানার কর্মকর্তাদের কথোপকথনে জানা গেছে, সাধারণ ডায়েরি, মামলা এবং ঢাকার বাইরের থানাগুলোতে টহল দেওয়া ছাড়া পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন খুব বেশি সক্রিয় নয়।
পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পুলিশি ব্যবস্থার কতটা সময় লাগতে পারে, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
Comments
Post a Comment